Customer Helpline । 01885 055 055



বাচ্চার গ্যাসের সমস্যা সমাধানে ৫টি সহজ উপায়

Posted by Mohammed . on

বাচ্চাদের গ্যাসের সমস্যা হওয়া নতুন কিছু নয়। তবে এ সমস্যাটি প্রকট হলে স্বাস্থ্যঝুঁকি দেখা দেয়। এই সমস্যাটিকে অনেকেই গুরুত্ব দেয়না তবে আপনার শিশুটি যখন এই সমস্যায় ভুগবে তখন আপনি অবশ্যই এর থেকে মুক্তি চাইবেন। এই সমস্যাটি প্রত্যেক বাচ্চারই কিছু সময়ের জন্য বেশ প্রকট থাকে। তবে এটি থেকে মুক্তির উপায়ও আছে!

কি কারণে বাচ্চার গ্যাসের সমস্যা হতে পারে?

মাসখানিক বয়সী বাচ্চার সাথে কিছু সময় কাটালে তার গ্যাসের সমস্যা লক্ষ্য করা যায়। সাধারণত এটি বড় কোন স্বাস্থ্যঝুঁকি ইঙ্গিত করেনা এবং বাচ্চাদের গ্যাস হওয়া স্বাভাবিক। জন্মের কিছু সপ্তাহের মধ্যেই বাচ্চাদের গ্যাসের প্রবণতা প্রকাশ পায়। এর প্রধান কারণ হজমশক্তি সম্পূর্ণ গড়ে না ওঠা এবং কান্না কিংবা খাওয়ার সময় মুখের মাধ্যমে বাতাস ঢোকা।

বাচ্চারা খাওয়ার সময় সাধারণত বাতাস তাদের মুখে যায় এবং তাদের পরিপাকনালী তখনও সুগঠিত না হওয়ায় গ্যাসের সৃষ্টি হয়। কিছু কিছু ক্ষেত্রে যেসব বাচ্চা মায়ের দুধ পান করে, তাদের গ্যাসের সমস্যা হওয়ার পিছনে মায়ের খাদ্যাভ্যাসের ভূমিকা থাকে।

গ্যাস হওয়া স্বাভাবিক বিষয় কিন্ত কিছু ক্ষেত্রে এটি অজানা স্বাস্থ্যসমস্যার লক্ষণ হিসেবেও প্রকাশ পেতে পারে। এজন্য বাচ্চার গ্যাসের সমস্যা বেশি হলে নিজ থেকে কোন ‘ট্রিটমেন্ট’ শুরু করার আগে ডাক্তারের সাথে সে বিষয়ে অবশ্যই কথা বলা উচিত।

গ্যাসের সমস্যা নিরাময়ের পাঁচটি উপায়

গ্রাইপ ওয়াটার (Gripe Water) ব্যবহার করা 

ফার্মাসীতে সাধারণত gripe water সহজে পাওয়া যায়। এটি একটি তরল ঔষধ যা গ্যাসের সমস্যা প্রতিকারে সাহায্য করে। শুধু তাই নয়, colic জনিত পেট ব্যথা এবং হেঁচকির প্রবণতা নিরাময়েও সাহায্য করে। এই ঔষধটি হারবাল ইনগ্রিডিয়েন্ট, যেমন- আদা, ফেনেল, ইত্যাদি দিয়ে তৈরি যা একত্রে কাজ করে হেঁচকি, পেট ব্যথা, ইত্যাদি দূর করে। ব্যবহারের পূর্বে অবশ্যই ডাক্তারের সাথে ডোসেজ আলোচনা করে নিতে হবে। খেয়াল রাখতে হবে যে ব্র্যান্ড ব্যবহার করছেন, তাতে এলকোহল না থাকে।

ঠিকভাবে ল্যাচ (latch) করছে কিনা তা লক্ষ্য রাখতে হবে

যেসব বাচ্চা মায়ের দুধ পান করে, তাদের ক্ষেত্রে ল্যাচিং (বাচ্চার ওপরের ঠোঁটে আলতো করে নিপল ছোঁয়ান বা হাল্কা করে ঘষে দিন। এতে সহজাত প্রবৃত্তি থেকে বাচ্চা মুখ খুলবে দুধ খাওয়ার জন্য) একটি বড় বিষয়। তার পজিশন এমন হতে হবে যেন মুখে বাতাস বেশি ঢুকতে না পারে। বাচ্চা যদি ফর্মুলা দুধ পান করে তবে তার বোতলের মুখ যেন বেশি বড় না হয় অথবা ল্যাচ সিস্টেম সাপর্ট করে এই ধরণের ফিডার ব্যাবহার করতে হবে। তা না হলে তার মুখে বাতাস ঢুকে যাওয়ার সম্ভাবনা বেড়ে যায়। খাওয়া শেষ হওয়ার পর অবশ্যই ঢেঁকুর তুলতে হবে। যদি বাচ্চা ঠিকমত ল্যাচিং না করে, তবে ডাক্তারের সাথে এ বিষয়ে আলোচনা করতে হবে।

পেট ম্যাসাজ করা

বাচ্চার পেট হালকা করে ঘড়ির কাঁটার ন্যায় বাম থেকে ডানে বৃত্তাকারে ম্যাসাজ করলে তার পেটে ঢুকে যাওয়া বাতাস পরিপাক নালীতে ঠিকমত চলাচল করতে পারে। ফলে এক জায়গায় বাতাস আটকে থেকে পেট ব্যথার সৃষ্টি হয়না। পেট ম্যাসাজ করে দেওয়া পছন্দ না করলে তাদের শুইয়ে পা দুটো সাইকেলের চাকার মত ঘুরালেও ম্যাসেজ এর উপকারিতা পাওয়া যাবে।

ঔষধ ব্যবহার করা

গ্যাস নিরাময়ার জন্য ফার্মাসীতে গ্যাস রিলিফ ড্রপ পাওয়া যায়। এটির মূল উপাদান simethicone যা বাচ্চাকে প্রায় সাথে সাথেই রিলিফ দেয় গ্যাসের সমস্যা থেকে। বাচ্চার বয়স যদি ৬ মাস বা তার অধিক হয় তবে Constipation Ease (কষ্ঠ্যকাঠিন্য নিরাময়ক) এর মত ঔষধ থেকে নিরাময় পাওয়া যেতে পারে। এর মধ্যে prune juice এর মত উপাদান থাকে যার কারনে পরিপাক নালী খাবার সহজে হজম করতে পারে।

বাচ্চাকে বসিয়ে খাওয়ানো

খাওয়ানোর সময় বাচ্চার মাথা যেন পেটের উপরে থাকে অর্থাৎ শুইয়ে খাওয়ানোর বদলে বসিয়ে কিংবা মাথা উঁচু করে খাওয়ানো উচিত। এতে তার মুখের মাধ্যমে বাতাস কম ঢুকে। খাওয়া শেষ হওয়ার পরেও প্রায় ২০-৩০ মিনিট এমন পজিশনে রাখলে দুধ পরিপাকে সুবিধা হয় এবং গ্যাস কম হয়।

বাচ্চাদের গ্যাস হওয়া স্বাভাবিক বিষয়। তার পরিপাকে সাহায্য করবে এমন পন্থা অবলম্বন করলে সহজেই এই সমস্যা কমানো যায় অথবা নিরাময় করা যায়। এই ৫টি পন্থার সাহায্যে তার পরিপাকে সুবিধা হবে। যেকোন ঔষধ দেওয়ার আগে অবশ্যই ডাক্তারের পরামর্শ নেওয়া উচিত।