বাচ্চাদের যেভাবে করোনাভাইরাস থেকে নিরাপদ রাখবেন

Posted by Mohammed . on

বাচ্চাদের ক্ষেত্রে করোনাভাইরাস

সম্প্রতি ইতালী ফেরত দুইজন বাংলাদেশির করোনা ভাইরাস সনাক্ত হওয়ার পর বাংলাদেশের মানুষের মধ্যে মারাত্বক ভয়ের সঞ্চার হয়েছে। তাছাড়া করোনা ভাইরাসের বর্তমান প্রাদুর্ভাব COVID-19 নামক রোগের কারণে বিশ্বের সবার মনেই আতঙ্কের সৃষ্টি করেছে। ওয়ার্ল্ড হেলথ অর্গানাইজেশন (WHO) এই রোগটিকে বৈশ্বিক জরুরি অবস্থা হিসেবে শনাক্ত করেছে। এই সময়ে প্রতিটি সন্তানের মা-বাবাই ভয়ে আছেন যেন তাদের আদরের শিশুটি কোন ভাবেই এই রোগে আক্রান্ত হয়ে না যায়।

তাদের জন্যই বেবিওয়ালা নিয়ে এসেছে কিছু টিপস যা বাচ্চাদের এই রোগ প্রতিরোধে সাহায্য করবে!

 করোনাভাইরাস কী?

 করোনাভাইরাস একটি বড় গোত্রের ভাইরাস যা মানুষ, পশুপাখির মধ্যে দেখা যায়। এই গোত্রেই অনেক প্রজাতির ভাইরাস রয়েছে যার মধ্যে কিছু মানুষের দেহে রোগের সৃষ্টি করে। এই ভাইরাসটি দেহে মূলত সর্দি-কাশির মত উপসর্গ দেখায়। বর্তমান প্রাদুর্ভাব ছাড়াও পূর্বে এরূপ রোগ দেখা গিয়েছে যার পিছনে ছিল MERS-CoV এবং SARS এর মত ভাইরাস। এসব ভাইরাসেও করোনাভাইরাসের মত উপসর্গ দেখা দেয়। যদিওবা ইবোলা এবং অন্যান্য ভাইরাসে মৃত্যুর হার তুলনামূলকভাবে অনেক বেশি ছিল (করোনা ভাইরাসে আক্রন্ত রোগীদের মৃত্যুর হার ২% এরও কম), এরপরও বিভিন্ন সংবাদ মাধ্যম এবং সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ছড়ানো বেশ কিছু গুজব এবং ভুল তথ্যের কারণে মানুষ করোনা ভাইরাসের ব্যাপারে অনেক বেশী ভীত সন্তস্ত্র।

 COVID-19 বা করোনাভাইরাস রোগ প্রথম শনাক্ত হয় ডিসেম্বর, ২০১৯ এ চীনের হুবেই প্রদেশের উহান শহরে। এরপর দ্রুতই তা চীনের অন্যান্য প্রদেশে ছড়িয়ে পড়ে। এছাড়া ভারতের সীমানায় তিব্বতেও এ রোগ চীন থেকে ছড়িয়ে পড়ে। এখন পৃথিবীর বিভিন্ন দেশ এবং আমাদের প্রতিবেশী ভারত, পাকিস্তান, নেপাল, শ্রীলংকাতেও এ রোগের প্রাদুর্ভাব দেখা যাচ্ছে।

বেশির ভাগ ক্ষেত্রে করোনাভাইরাস রোগের উপসর্গ হালকা হয়ে থাকে। তবে সঠিক চিকিৎসার অভাবে খুব কম সময়ের মধ্যেই তা জটিল রূপ ধারণ করতে পারে এবং মৃত্যুর কারণ হতে পারে। করোনাভাইরাস থেকে মৃত্যু হয়েছে এমন বেশির ভাগ রোগীই বৃদ্ধ ছিলেন। কম বয়সী যাদের মৃত্যু হয়েছে তাদের আগে থেকেই কোন না কোন রোগ থাকায় দেহের রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা কমে গিয়েছিল যার ফলে এই ভাইরাসের প্রতিকার করতে পারেনি।

COVID-19 একটি নতুন রোগ যার প্রতিরোধ এবং প্রতিকারের জন্য এখনও অনেক গবেষণার প্রয়োজন। কীভাবে এটি ছড়িয়ে থাকে এবং মৃত্যুর সম্ভাবনা কত তা জানার জন্য বিজ্ঞানীরা গবেষণা করে যাচ্ছেন। এই ভাইরাস গরম আবহাওয়ায় কেমন আচরণ করে তাও এখনও পরিষ্কার নয়। বিজ্ঞানীরা রোগ প্রতিরোধের জন্য ভ্যাক্সিন প্রস্তুতের চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছেন যা দ্রুত সময়ের মধ্যে প্রস্তুত করার সর্বোচ্চ চেষ্টা চালানো হচ্ছে।  

আমার বাচ্চার কী করোনাভাইরাসে আক্রান্ত হওয়ার সম্ভাবনা আছে?

প্রথমত, শিশুদের এই ভাইরাসে আক্রান্ত হওয়ার সম্ভাবনা খুবই কম। এখন পর্যন্ত প্রায় এক লক্ষ মানুষ এই ভাইরাসে আক্রান্ত হয়ে থাকলেও এর মধ্যে ৫০০ এর চেয়ে কম শিশু, এবং আক্রান্ত সকল শিশুই হালকা জ্বর-কাশি হয়ে সুস্থ হয়েছে। তাই শিশুদের ক্ষেত্রে এই ভাইরাসের আক্রান্ত হওয়া নিয়ে ভয়ের কিছু নেই। তাছাড়াও বিশেষজ্ঞদের মতে ২৩ ডিগ্রি সেলসিয়াস তাপমাত্রার উপরের আবহাওয়ায় এই ভাইরাস বেশিক্ষণ জীবিত থাকতে পারে না, তাই আমাদের দেশের প্রেক্ষাপটে এই ভাইরাসের দ্রুত সংক্রমনের সম্ভাবনা খুবই কম। তারপরও আমাদের সচেতন থাকা খুবই জরুরী। 

আমার পরিবারকে কীভাবে করোনাভাইরাস থেকে রক্ষা করতে পারি? 

করোনাভাইরাস অন্যান্য শর্দি-কাশির ভাইরাসের মতই বিস্তার পেয়ে থাকে। মূলত কোন অসুস্থ মানুষের হাঁচি-কাশি থেকে এটি ছড়িয়ে থাকে। 

স্বাস্থ্যসংস্থার নির্দেশনা অনুযায়ী সাধারণ স্বাস্থ্যরক্ষা বিষয়ক সতর্কতা অবলম্বন করলে করোনাভাইরাস থেকে রক্ষা পাওয়া যাবে। এসব দিকনির্দেশনা শুধু নিজের নয়, পরিবারের সকলকে মেনে চলতে হবে-

  • বাচ্চাদের যেকোন অসুস্থ মানুষের থেকে দূরে রাখতে হবে
  • নিয়মিত হাত ধুতে হবে এবং বাচ্চাদেরও হাত ধুইয়ে দিতে হবে। পরিবারের সবাইকে হাত ধোয়ার ব্যপারে উৎসাহিত করতে হবে।
  • হাত ধোয়ার সময় সাবান এবং পানি ব্যবহার করতে হবে। অন্তত ২০ সেকেন্ড ভালমত হাত ধুতে হবে। যদি সাবান-পানি না থাকে, তবে এলকোহলযুক্ত হ্যান্ড স্যানিটাইজার দিয়ে হাত পরিষ্কার করতে হবে।
  • হাঁচি-কাশি দেওয়ার সময় মুখ ঢেকে রাখতে হবে। মুখ ঢাকার জন্য হাত ব্যবহারের বদলে কনুই ভাঁজ করে মুখ ঢাকতে হবে অথবা টিস্যু ব্যবহার করতে হবে। টিস্যু ব্যবহার করলে তা সাথে সাথে ফেলে দিতে হবে এবং হাত পরিষ্কার করতে হবে। 

ফেস-মাস্ক মূলত ডাক্তার-নার্সদের জন্য অত্যাবশ্যক। সর্দি-কাশি হয়ে থাকলেও এটি ব্যবহার করতে হবে। জনবহুল জায়গায় গেলেও ফেইস মাস্ক ব্যবহার করা উচিত। এছাড়া এটি ব্যবহার করা অত্যাবশ্যক নয় এবং করোনা ভাইরাস থেকে মুক্তি পাওয়া যাবে- একথাও নিছক ভুল। 

করোনাভাইরাস নিয়ে বহু গুজব ছড়াচ্ছে প্রতিনিয়ত। সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম এবং বেশ কিছু অনলাইন নিউজ সাইটে ভুল তথ্য দিয়ে জনমনে আতংক ছড়ানো হচ্ছে। ভুল তথ্য থেকে দূরে থাকা অত্যন্ত প্রয়োজনীয়। WHO এসব আতংক দূর করতে এবং সবাইকে করোনাভাইরাস সম্পর্কে সঠিক তথ্য জানাতে ওয়েবসাইট পাবলিশ করেছে। 

সবার এ সময়ে বিদেশ ভ্রমণ এবং খুব প্রয়োজন ব্যতীত দেশের মধ্যে ভ্রমণ থেকে বিরত থাকতে হবে। আশেপাশের কেউ যদি সম্প্রতি চীন, সাউথ কোরিয়া, ইতালি, সিংগাপুর, অথবা এর আশেপাশের দেশ থেকে এসে থাকে যেখানে করোনাভাইরাস প্রকট আকার ধারণ করেছে, তাদেরকে কোয়ারেন্টিনে নিয়ে যেতে হবে এবং কোয়ারেন্টিনের মেয়াদ উত্তীর্ণ না হওয়া পর্যন্ত তাদের কাছে যাওয়া যাবে না। 

করোনাভাইরাসের উপসর্গ কি কি?

  • হাঁচি-কাশি
  • স্বাভাবিকের চেয়ে বেশি ক্লান্তি
  • মাথাব্যথা
  • জ্বর
  • নিশ্বাস নিতে সমস্যা হওয়া 

আপনি নিজের কিংবা আপনার আপনজনের কারো মধ্যে যদি উপরেল্লিখত কোন উপসর্গ দেখতে পান, তাহলে বিলম্ব না করে দ্রুত করোনাভাইরাস হটলাইন: ১৬২৬৩ নম্বরে যোগাযোগ করুন। এছাড়াও নিম্নোক্ত নম্বরগুলোতেও যোগাযোগ করতে পারেন।

০১৯৩৭০০০০১১

০১৯৩৭১১০০১১

০১৯২৭৭১১৭৮৪

০১৯২৭৭১১৭৮৫

 

করোনা ভাইরাস সম্পর্কে সর্বশেষ খবর জানতে এখানে ক্লিক করুন।