Customer Helpline । 01885 055 055



অটিজম শিশুদের কেয়ার গিভারদের জন্য সাইকো এডুকেশন (পর্ব-১)

Posted by Omar M on

অটিজম এমন একটি রোগ যার কিছু লক্ষণ সারা জীবন ধরে চলতে থাকে। ডায়াবেটিসের মতো শারীরিক রোগের লক্ষণগুলোও সারা জীবন ধরে দেখা যায়। এর ফলে  মূল যে সমস্যাগুলো দেখা যায় তা হলঃ অন্যের সাথে যোগাযোগে সমস্যা, সামাজিক সম্পর্ক তৈরি করতে সমস্যা, ভাষার বিকাশ কম হওয়া, কোন বস্তুর প্রতি অনাবশ্যক আগ্রহ এবং পুনরাবৃত্তিমূলক আচরণ। অটিজম মৃদু থেকে তীব্র মাত্রার হতে পারে এবং এর লক্ষণগুলো এক এক শিশুর মধ্যে এক একরকমভাবে দেখা যায়।

লক্ষণঃ

  • অটিস্টিক শিশুদের দ্রুত চিহ্নিত করাটা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। গবেষণায় দেখা গেছে ২০ থেকে ৩৬ মাসের শিশুদের মধ্যে এমন কিছু লক্ষণ দেখা যায় যা দেখে সহজেই অটিস্টিক শিশুকে সনাক্ত করা যায়। লক্ষণগুলো হলঃ
  • প্রথমে ১২ মাসের মধ্যে শিশু আধো আধো কথা বলে না।
  • কোন ইশারা/ঈঙ্গিত করে না (আঙ্গুল দিয়ে কোন কিছু দেখানো, হাত নেড়ে টা-টা, বাই-বাই করা ইত্যাদি)।
  • প্রথম ১৬ মাসের মধ্যে একটি করে শব্দ বলার চেষ্টা করে না।
  • প্রথম ২৪ মাসের মধ্যে দুটি শব্দ দিয়ে (শুধু অনুকরণ করে নয়) নিজের স্বতঃস্ফূর্তভাবে কথা বলে না।
  • ৩ বছর বয়সের মধ্যে শিশুর বিকাশের বিভিন্ন দক্ষতাগুলো ধীরে ধীরে কমে যেতে থাকে। যেমন নাম ধরে ডাকলে ফিরে তাকানো, হাসা, কথা বলা ইত্যাদি।
  • জেদি আচরণ করে এবং অতিমাত্রায় চাঞ্চল্য দেখা যায়।
  • স্বাভাবিকভাবে শিশুদের কারও মধ্যে এসব লক্ষণের ২/১টি দেখা যেতে পারে। তবে যদি কোন শিশুর মধ্যে এসব লক্ষণের বেশিরভাগ দেখা যায় তাহলে দেরি না করে চিকিৎসক বা সংশ্লিষ্ট বিশেষজ্ঞের পরামর্শ নিন।

অটিস্টিক শিশুর বৈশিষ্ট্যঃ

শিশুর অটিজম হয়েছে কিনা তা সঠিকভাবে বলতে পারেন একজন মনোচিকিৎসক, সংশ্লিষ্ট বিশেষজ্ঞ, চিকিৎসা মনোবিজ্ঞানী ও সংশ্লিষ্ট বিষয়ে প্রশিক্ষক। নিম্নলিখিত বৈশিষ্ট্যগুলো দেখে অটিস্টিক শিশু চিহ্নিত করা যায়ঃ

১) নাম ধরে ডাকলে ফিরে তাকায় না।

২) সমবয়সী শিশুদের সাথে বন্ধুত্ব তৈরি করতে পারে না। যেমন- একই সাথে খেলা করা, গল্প করা ইত্যাদি।

৩) মানুষের দিকে চোখ তুলে তাকায় না।

৪) অন্যরা আদর করলে কিংবা জড়িয়ে ধরলে প্রায়ই অপছন্দ করে বা ভাল বোধ করে না।

৫) কল্পনামূলক বা অভিনয়মূলক খেলা করে না। যেমনঃ পুতুলের বিয়ে দেওয়া, যুদ্ধ-যুদ্ধ খেলা ইত্যাদি।

৬) অন্যের চিন্তা ও অনুভূতি শেখে ধীরে ধীরে। অনেকে এটা বুঝতেই পারে না।

৭)বিভিন্ন ধরণের সামাজিক পরিবেশে খাপ খাওয়াতে পারে না। যেমন- বিয়ে বা জন্মদিনের অনুষ্ঠানে অতিরিক্ত কান্নাকাটি করা, জেদ করা ইত্যাদি।

খুবই সাধারণ সামাজিক বিষয় যেমন হাসি, তামাশা, চোখের ইশারা, ভাব-ভঙ্গি বা ভেংচি কাটা ইত্যাদি তাদের কাছে অর্থহীন মনে হয়। একারণে তারা একই শব্দের বা বাক্যের বিভিন্ন অর্থ ধরতে পারে না। যেমন ওদের কাছে ‘চুপ করো’ কথাটি সবসময় একই অর্থ বহন করে, এটা হাসি-হাসি মুখে বলা হোক বা রাগের ভঙ্গিতে বলা হোক, তাতে কিছু পার্থক্য হয় না।

ভাষার বিকাশঃ

স্বাভাবিক শিশুরা তিন বছর বয়সের মধ্যেই ভালোভাবে কথা বলতে শুরু করে। গবেষণায় দেখা গেছে, অর্ধেকেরও বেশি অটিস্টিক শিশু সারা জীবনে কথাই বলেনা। আর যেসব শিশুর মধ্যে প্রথমে অটিজমের লক্ষণ দেখা যায় না, সেসব শিশু তিন বছর বয়সের মধ্যে বিভিন্ন আধো আধো কথা বলা শুরু করে। কিন্তু তারপর হঠাৎ করে কথা বলা বন্ধ করে দেয়। আবার অনেক শিশু কথা বলে অনেক দেরিতে। প্রায়ই ৫-৮ বছর বয়সের পর গিয়েও কথা বলতে দেখা যায়। যেসব শিশুরা কথা বলে তাদের মধ্যে অনেকের ভাষা কিংবা শব্দ ব্যবহারেও বেশ অস্বাভাবিকতা দেখা যায়। কেউ কেউ যথাযথ শব্দ জুড়তে পারে না, ফলে বাক্য অর্থহীন হয়ে পড়ে, যা পরিবারের সদস্য ছাড়া অন্যরা বুঝতে পারে না।

কিছু শিশু বিভিন্ন পরিস্থিতিতে হয়তো সারাদিন একই ধরণের বাক্য ব্যবহার করে। যেমনঃ “গাড়িতে ওঠ”, “এখানে বস” ইত্যাদি।

আবার ভাষার দক্ষতা ভাল থাকার পরও অনেক শিশু বেশি সময় কথা চালিয়ে যেতে পারে না।

একই আচরণ বারবার করাঃ

কোন বস্তুর প্রতি অতিরিক্ত মনোযোগ দেওয়া বা অস্বাভাবিক আগ্রহ দেখানো। যেমনঃ সুতা, চামচ, কাঠি, গাড়ি ইত্যাদি ঘণ্টার পর ঘণ্টা ধরে রাখা।

কোন রুটিন কাজ বা পরিবেশের কোন পরিবর্তন করতে চাইলে সহজে মেনে না নেওয়া অর্থাৎ সবসময় আশেপাশের জিনিস একই রকমভাবে থাকতে হবে। যেমন ঘরের কোন জিনিসপত্র সরানো হলে কান্নাকাটি শুরু করা।

খেলনা বা জিনিসপত্র সারিবদ্ধভাবে সাজিয়ে রাখা।

বিভিন্ন ধরণের শারীরিক অঙ্গভঙ্গি বারবার করা। যেমনঃ আঙ্গুল মটকানো, হাত ঘষা, সারা শরীর মচকানো ইত্যাদি।

সাধারন কোন কাজের বেশিক্ষণ মনোযোগ না দেয়া। (…)

 

 ..........................................

লিখেছেনঃ

ফারহানা আহমেদ

সিনিয়ির শিশু মনোবিজ্ঞানী

চট্টগ্রাম মা-শিশু ও জেনারেল হাসপাতাল