Customer Helpline । 01885 055 055



অটিজম শিশুদের কেয়ার গিভারদের জন্য সাইকো এডুকেশন (পর্ব-২)

Posted by Omar M on

(১ম পর্ব পড়তে এখানে ক্লিক করুন)

অটিজম প্রতিবন্ধকতা কেন হয়?

 গবেষণায় দেখা গেছে যে মস্তিষ্কের গঠন বা মস্তিষ্কের কার্যপ্রণালীর অস্বাভাবিকতাই অটিজম হওয়ার কারণ। কিন্তু এই অস্বাভাবিকতা কেন হয় তার সুনির্দিষ্ট কারণ জানা যায়নি। তবে জন্মের পর কোন কারণে এটি সৃষ্টি হয় না। নিচে কিছু কারণ উল্লেখ করা হলঃ

 ১) জন্মের সময় শিশুর দেহের ক্রোমোজোমের কোনটিতে সমস্যা তৈরি হলে পরবর্তীতে তাদের মধ্যে বিভিন্ন ধরণের শারীরিক ও মানসিক সমস্যা দেখা দেয়। গবেষণায় দেখা গেছে, যমজদের মধ্যে ভিন্ন যমজদের তুলনায় অভিন্ন যমজদের মধ্যে অটিজম হবার সম্ভাবনা বেশি থাকে (Kates WR. Et al, 2004)

 ২) গর্ভকালীন সময়ে, বিশেষ করে গর্ভের প্রথম তিন মাসে, মা রুবেলা (একে জার্মান হামও বলা হয়) ভাইরাসে আক্রান্ত হলে, শিশুর পরবর্তী জীবনে বিভিন্ন সমস্যা তৈরি হতে পারে। যেমন অটিজমে আক্রান্ত হওয়া এবং মানসিক প্রতিবন্ধী ইত্যাদি।

 ৩) গর্ভকালীন সময়ে শিশুর অক্সিজেন সরবরাহ কম হলে অটিজম হওয়ার ঝুঁকি বাড়ে।

 ৪) গর্ভকালীন সময়ে মানুষের মস্তিষ্ক দ্রুত বড় ও জটিল হতে থাকে। এসময়ে মস্তিষ্কের বিকাশ স্বাভাবিকভাবে না হওয়ার কারণে শিশুর ভাষা, সংবেদন, সামাজিক ও মানসিক বিকাশে সমস্যা তৈরি হয়।

 ৫) মস্তিষ্কে বিভিন্ন ধরণের রাসায়নিক উপাদানের পরিমাণের এুটির জন্য মস্তিষ্কের নিউরোক্যামিকেল উপাদানের ভারসাম্যহীনতা তৈরি হয়, ফলে এই রোগের লক্ষণগুলো দেখা দিতে পারে।

 ৬) আরও কিছু কারণের কথা বলা হয়, যেমন এম এম আর ভ্যাকসিন, খাবারে গ্লুটেন (Gluten) অথবা ক্যাসিন (Casin) ইত্যাদি।

 অটিজম কতটুকু নিরাময়যোগ্য?

 অটিজমের নির্দিষ্ট কারণ কোনটি তা নিয়ে এখনও গবেষণা চলছে। তাই এখন পর্যন্ত এমন কোন চিকিৎসা পদ্ধতি নেই যার মাধ্যমে শিশু সম্পূর্ণভাবে ভালো হয়ে যাবে। পরিবারে প্রথম যখন কোন শিশুর অটিজম হয়েছে বলে সনাক্ত করা হয় তখন যে সমস্যাটা দেখা যায় তা হচ্ছে, বেশিরভাগ বাবা-মা এবং পরিবার এটা মেনে নিতে চায় না। বস্তুত, অনেক সময় পরিবারের সদস্যরা এমন বলে যে বয়স হলে ঠিক হয়ে যাবে, বাচ্চাদের মধ্যে এধরণের আচরণ থাকতেই পারে ইত্যাদি। এসব ধারণার মাধ্যমে বাবা-মা কেবলমাত্র নিজেদের মনকে শান্ত রাখার চেষ্টা করেন এবং ফলশ্রুতিতেঃ

 ১) শিশুর প্রয়োজনীয় প্রশিক্ষণ হয় না।

২) শিশুর উন্নয়ন বাধাগ্রস্থ হয়।

 তাই চিকিৎসা যত দেরিতে শুরু করবেন শিশুর পরিবর্তন ততই ধীর গতিতে হবে। অবশ্যই মনে রাখবেন, শিশুর অবস্থার উন্নয়নের জন্য প্রয়োজন দীর্ঘ মেয়াদি পরিকল্পনা, প্রশিক্ষণ, রুটিনমাফিক কাজ করা এবং সময় ও ধৈর্য্যের সমন্বয়। এজন্য প্রথম থেকেই যা দরকার তা হচ্ছে শিশুর বর্তমান পরিস্থিতিকে মেনে নেয়া এবং শিশুর স্বতন্ত্র বৈশিষ্ট্যগুলো মূল্যায়ন করে তা উন্নয়নের পথ সুগম করা।

 চিকিৎসাঃ যদিও অটিজম সম্পূর্ণ নিরাময় সম্ভব নয় কিন্তু নিয়ন্ত্রণ সম্ভব। এজন্য প্রয়োজন বিভিন্ন ধরণের প্রশিক্ষণ কৌশল আয়ত্ব করা। অটিজম সনাক্ত এবং এর তীব্রতা বোঝার জন্য বিভিন্ন ধরণের মনোবৈজ্ঞানিক পরিমাপক ব্যবহার করা হয়, যেমন M-Chat, ADOS (Autism Diagnostic Observation Schedule), ADCL (Autism Diagnostic Check List), PDDAS (Pervasive Developmental Disorder Assessment Scale) এই পরিমাপকগুলো চট্টগ্রাম মা-শিশু ও জেনারেল হাসপাতালে শিশু বিকাশ কেন্দ্রে (CDC) ব্যবহৃত হয়। এছাড়া এসব শিশুর জন্য বিভিন্ন ধরণের বিশেষ শিক্ষা এবং থেরাপি ব্যবহৃত হচ্ছে। এগুলোর মধ্যে উল্লেখযোগ্য হলঃ

 ১) ঔষধ

২) সাধারণ ও বিশেষ শিক্ষা

৩) মনোবৈজ্ঞানিক চিকিৎসা (আচরণ পরিমার্জন ও সাইকো এডুকেশন)

৪) Speech Therapy

৫) Occupational Therapy

৬) Physio Therapy

 

 

 ..........................................

লিখেছেনঃ

ফারহানা আহমেদ

সিনিয়ির শিশু মনোবিজ্ঞানী

চট্টগ্রাম মা-শিশু ও জেনারেল হাসপাতাল