Customer Helpline । 01885 055 055



বাচ্চাদের মধ্যে ভাইরাল ইনফেকশন ও তার প্রতিকার

Posted by Mohammed . on

ভাইরাল ইনফেকশন কী?

ভাইরাল ইনফেকশন ভাইরাস থেকে হয়ে থাকে এবং ব্যাকটেরিয়াল ইনফেকশন ব্যাকটেরিয়া থেকে হয়ে থাকে। ব্যাকটেরিয়াল ইনফেকশন প্রতিকারে এন্টিবায়োটিক ব্যবহার করা হয়। সিজনাল ফ্লু বা ইনফ্লুয়েঞ্জা একটি ভাইরাল ইনফেকশন যা প্রায় সব বয়সের মধ্যেই দেখা যায়। তবে বাচ্চাদের ক্ষেত্রে ভাইরাল ইনফেকশন খুব সহজে প্রভাব ফেলতে পারে।

অনেক ধরনের ভাইরাল ইনফেকশন বাচ্চাদের মধ্যে দেখা যায়। এসব ভাইরাস ছড়িয়ে থাকে মানুষের হাঁচি-কাশি থেকে। এছাড়াও অসুস্থ মানুষের আশেপাশে থাকলেও ভাইরাল ইনফেকশন ছড়াতে পারে বাতাসের মাধ্যমে কিংবা তারা অপরিষ্কার হাত দিয়ে বাচ্চাকে স্পর্শ করলে।

যেসব ভাইরাল ইনফেকশন অহরহ দেখা যায়, সেগুলো সাধারণত বাতাসের মাধ্যমেই ছড়িয়ে থাকে।

রোগের উপসর্গ দেখা দেওয়ার দিন থেকে ১০ দিন পর্যন্ত বাচ্চার শরীর থেকে ভাইরাসটি ছড়ানোর আশংকা থাকে। এসব উপসর্গের মধ্যে ভাইরাল জ্বর অন্যতম। এসব উপসর্গ দুই সপ্তাহ পর্যন্ত থাকতে পারে। দুই বছরের কম বয়সী বাচ্চাদের ক্ষেত্রে ভাইরাল জ্বর অনেক ক্ষতির কারণ হতে পারে। 

ভাইরাল জ্বর অনেক ধরনের হয়। যদি আপনার বাচ্চার ভাইরাল ফ্লু অর্থাৎ ইনফ্লুয়েঞ্জা হয়ে থাকে, যদি সঠিক চিকিৎসা না করা হয় তবে তা নিউমোনিয়ায় রূপান্তরিত হতে পারে।

ভাইরাল জ্বর প্রতিকারের প্রধান উপায় হচ্ছে এর উপসর্গ নিরাময়ের ব্যবস্থা করা। জ্বর, সর্দি, কাশি ইত্যাদি উপসর্গের জন্য যথাযথ ব্যবস্থা নিতে হবে। ভাইরাল ইনফেকশন প্রতিকারের কোন ঔষধ নেই। কিন্তু বাচ্চার উপসর্গ প্রতিকারের ব্যবস্থা করলে তার রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা ভাইরাসের বিপক্ষে সহজে লড়তে পারবে যা বাচ্চাকে সুস্থ করে তুলবে এবং পরবর্তী স্বাস্থ্য সমস্যা থেকে বাঁচাবে। 

বাচ্চার ভাইরাল ইনফেকশন হয়েছে তা কীভাবে বুঝব?

সাধারণত, ভাইরাল ইনফেকশনের প্রধান উপসর্গ জ্বর। জ্বরের সাথে সাথে গা ব্যথাও থাকতে পারে। জ্বর ৯৯ ডিগ্রি এর মত কম ও হতে পারে, আবার ১০২ ডিগ্রি পর্যন্ত উঠতে পারে।

যেহেতু অনেক ধরনের ভাইরাল ইনফেকশন আছে, উপসর্গও সে অনুযায়ী ভিন্ন হয়। তার বিভিন্ন উপসর্গের মধ্যে থাকতে পারে-

  • কাশি
  • সর্দি
  • গলা ব্যথা
  • মাথা ব্যথা
  • কাঁপুনি
  • ক্লান্তি
  • বমি
  • ডায়রিয়া
  • পেট ব্যথা

অনেক ক্ষেত্রে জ্বর কমে যাওয়ার পর বাচ্চাদের র‍্যাশ উঠতে পারে। এক্ষেত্রে অবশ্যই ডাক্তারের পরামর্শ নিতে হবে। র‍্যাশ অনেক ক্ষেত্রে অন্য কোন ইনফেকশন অথবা অসুস্থতার উপসর্গ হিসেবে দেখা দেয়।

বাচ্চার যেন ভাইরাল ইনফেকশন না হয় তা কীভাবে নিশ্চিত করব?

নিম্নোক্ত বিষয়গুলো মাথায় রাখতে হবে-

  • বাচ্চাকে অসুস্থ মানুষের থেকে দূরে রাখতে হবে। আশেপাশে কেউ অসুস্থ থাকলে তাদের বলুন হাঁচি-কাশির সময় টিস্যু ব্যবহার করতে। পরিবারের কোন সদস্যের সর্দি, কাশি, ডায়রিয়া, বমি ইত্যাদি হলে তারা যেন নিয়মিত পরিষ্কার-পরিচ্ছন্ন থাকেন, তা লক্ষ্য রাখতে হবে।
  • নিয়মিত নিজের এবং বাচ্চার হাত সাবান দিয়ে পরিষ্কার করুন যেন ভাইরাস না ছড়ায়।
  • ঋতু পরিবর্তনের সময় ভাইরাল ইনফেকশনের প্রাদুর্ভাব প্রকট হয় তাই এ সময়ে আরও বেশি সতর্ক থাকবেন।

বাচ্চার ভাইরাল ইনফেকশন হলে কী কী করতে হবে?

তরল জাতীয় খাবার দিন

জ্বর, ডায়রিয়া, বমি ইত্যাদির জন্য বাচ্চার দেহে পানির পরিমাণ কমে যায়। বাচ্চাকে যদি বুকের দুধ খাওয়ানো হয়, তবে সাধারণের চেয়ে বেশি পরিমাণে খাওয়াতে হবে। প্রয়োজন হলে ডাক্তার Oral Rehydration Salts (ORS) প্রেস্ক্রাইব করতে পারেন। এই সল্যুশন বাচ্চাকে প্রয়োজনীয় পুষ্টি দিয়ে সুস্থ রাখবে। বাচ্চা শুধু বুকের দুধ খেলেও এ সল্যুশন তাকে দেওয়া যাবে।

স্পেশাল ফুড

বাচ্চার বয়স যদি ছয় মাসের বেশি হয় তবে তাকে তরল-নরম খাবার দেওয়া যেতে পারে। যেমন- স্যুপ, ডাল, সুজি, ইত্যাদি। তার বয়স যত বেশি হবে, তাকে তত ঘন খাবার দেওয়া যাবে যেমন খিচুড়ি, নরম করে ভর্তা করা সবজি, ইত্যাদি।

ঔষধ

বেশির ভাগ ক্ষেত্রে ভাইরাল ইনফেকশনের উপসর্গ প্রতিকারে ঔষধ প্রেস্ক্রাইব করা হয়ে থাকে। বাচ্চার ইমিউন সিস্টেম ভাইরাসের বিরুদ্ধে লড়াই করে তাকে সুস্থ করে তুলবে তবে সেক্ষেত্রে তিন দিন থেকে এক সপ্তাহ পর্যন্ত লাগতে পারে। ঔষধ ব্যবহার করলে তার উপসর্গগুলো সহজে নিরাময় হতে পারে।

ডাক্তার জিঙ্ক ট্যাবলেট এবং ORS দিতে পারেন যদি বাচ্চার ডায়রিয়া হয়ে থাকে। এছাড়াও ব্যথানাশক ঔষধ এবং জ্বরের জন্যও কিছু ঔষধ দিতে পারেন। বাচ্চার সর্দি-কাশি হয়ে থাকলে তার জন্যও ঔষধ দিতে পারেন। এছাড়াও আপনি ঘরে বসে বেশ কিছু প্রতিকারক বাচ্চাকে দিতে পারেন।

বিশ্রাম নেওয়ার ব্যবস্থা করুন

বাচ্চাকে এ সময় ঘরে বিশ্রাম নেওয়ার ব্যবস্থা করতে হবে। ভাইরাস থাকাকালীন অবস্থায় এবং চলে যাওয়ার পর এক সপ্তাহ পর্যন্ত বিশ্রাম নেওয়া উচিত। এতে সে সহজে রোগমুক্ত হবে। এছাড়াও পরিবারের অন্যান্য সদস্য তার থেকে আক্রান্ত হবে না।

জ্বর কমানো

যদি বাচ্চার জ্বর বেশি হয়, তবে কুসুম গরম পানি দিয়ে শরীর মুছে দিবেন। এতে তার শরীর আরাম হবে এবং শরীরের তাপমাত্রা নেমে আসবে।

হাত ধুবেন

বাচ্চাকে ধরার আগে এবং পরে হাত ধুয়ে নিবেন। এতে পরিবারের সদস্যদের আক্রান্ত হওয়ার সম্ভাবনা থাকবে না।

ঘরে আলো-বাতাসের ব্যবস্থা করুন

বিশুদ্ধ বাতাসের জন্য ঘরের দরজা-জানালা দিনে অন্ত্যত একবার খুলে দিন। এতে বাতাসে থাকা জীবাণু বের হয়ে যাবে। ঘরের বাতাস শুষ্ক ও পরিষ্কার থাকবে এবং ছত্রাক আক্রান্ত হওয়ার সম্ভাবনা থাকবে না।।

বাচ্চার ভাইরাল ইনফেকশন হলে কী কী বিষয়ে সতর্ক থাকব?

ভাইরাল ইনফেকশন সাধারণত দুরূহ কোন রোগ নয়। তিন থেকে সাত দিনের মধ্যেই এটি ঠিক হয়ে যায়। তবে বাচ্চার নিম্নোক্ত কোন উপসর্গ থাকলে তৎক্ষণাৎ ডাক্তারের কাছে নিন-

  • তিন সপ্তাহের বেশি সময় ধরে কাশি
  • দুই সপ্তাহের বেশি সময় ধরে ডায়রিয়া
  • পায়খানায় রক্ত
  • এক সপ্তাহের বেশি সময় ধরে জ্বর
  • জ্ঞান হারানো বা খিচুনি
  • খাবার খেতে না চাওয়া
  • বার বার বমি করা
  • শ্বাসপ্রশ্বাসে সমস্যা
  • খুব বেশি অথবা খুব কম ঘুমানো
  • পা ফুলে ওঠা

ভাইরাল ইনফেকশন এবং ব্যাকটেরিয়াল ইনফেকশনের মধ্যে পার্থক্য কী?

ব্যাকটেরিয়াল এবং ভাইরাল ইনফেকশন দুটোতেই জ্বর, কাঁপুনি, ইত্যাদি হয়। এদের আলাদা করে বুঝা বেশ কঠিন।

ব্যাকটেরিয়াল ইনফেকশনে যেকোন উপসর্গ একটি নির্দিষ্ট অংশে দেখা দেয়। যেমন- বাচ্চার যদি ব্যাকটেরিয়াল ইনফেকশনের জন্য গলা ব্যথা হয়, তবে তা শুধু গলার এক দিকে হবে। ব্যাকটেরিয়াল ইনফেকশন সাধারণত বিশেষায়িত এন্টিবায়োটিক দিয়ে নিরাময় করা হয় যা ক্ষতিকর ব্যাকটেরিয়াটিকে ধ্বংস করে।

তবে ভাইরাল ইনফেকশনে দেহের বিভিন্ন অংশে ভাইরাস একত্রে আক্রমণ করে। তাই বাচ্চার যদি ভাইরাল ইনফেকশন হয়ে থাকে তবে তার সর্দি,কাশি, গা ব্যথা একত্রে হবে।

এন্টিবায়োটিক ভাইরাল ইনফেকশন নিরাময়ে কোন ভূমিকা রাখে না। এন্টিবায়োটিক শুধুমাত্র ব্যাকটেরিয়াল ইনফেকশনে প্রয়োজন হলে গ্রহণ করতে হবে।

ভাইরাল ইনফেকশন নিরাময়ে সাধারণত প্রচুর তরলজাতীয় খাবার গ্রহণ করা উচিত, প্রয়োজনীয় বিশ্রাম নেওয়া উচিত এবং ব্যথানাশক ঔষধ প্রয়োজন হলে নেওয়া উচিত। বেশির ভাগ ভাইরাল ইনফেকশনের জন্য ভ্যাক্সিন রয়েছে যা ভাইরাস প্রতিরোধে শরীরকে সাহায্য করে।

ঋতু পরিবর্তনের সময় ভাইরাল ইনফেকশন হওয়া অস্বাভাবিক নয়। এসময় ভীত না হয়ে প্রয়োজনীয় পন্থা মেনে চললে বাচ্চা শীঘ্রই সুস্থ হবে এবং আগের মত উচ্ছল হয়ে উঠবে!